একদিনে ঘুরে আসুন মিনি সুন্দরবন - The News Lion

একদিনে ঘুরে আসুন মিনি সুন্দরবন




খুলনা প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ;  বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবন। সুন্দরবনের মোট আয়তন ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার। যার মধ্যে বাংলাদেশ অংশের আয়তন প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার। সময় স্বল্পতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্বেও অনেকের পক্ষে এই বিশাল ম্যানগ্রোভ বনভূমির সৌন্দর্য উপভোগ করার সময় হয়ে ওঠে না। এই সকল ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে পশুর নদীর তীরে গড়ে তোলা হয়েছে করমজল পর্যটন কেন্দ্র।


একদিনে সুন্দরবন ভ্রমণ এবং সুন্দরবন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হচ্ছে করমজল। মংলা বন্দর থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে করমজলের জেটিতে পৌঁছাতে সময় লাগবে এক থেকে দেড় ঘন্টা । যাত্রা পথে নৌকার ছাদে বসে উপভোগ করতে পারবেন পশুর নদীর সৌন্দর্য। করমজলের প্রবেশ পথেই মাটিতে শোয়ানে বিশালাকৃতির মনচিত্র আপনাকে সুন্দরবন সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেবে। মানচিত্রকে পেছনে ফেলে বনের মধ্যে দক্ষিণে চলে গেছে আঁকাবাঁকা কাঠের তৈরি পথ যার নাম মাঙ্কি ট্রেইল। এই মাঙ্কি ট্রেইল ধরে সামান্য পথ হাটার পরেই এই নামের সার্থকতা মিলবে। পুরো ট্রেইল জুড়েই দেখা মিলবে সুন্দরবনের অন্যতম বাসিন্দা রেসাস বানরের ।


কাঠ বিছানো পথের দুই ধারে ঘন জঙ্গল। দুই পাশে বাইন, কেওড়া আর সুন্দরী গাছের সারি। কাঠের পথটি কিছু দূরে যাওয়ার পর হাতের বায়ে শাখা পথটি গিয়ে থেমেছে পশুর নদীর তীরে। শেষ মাথায় নদীর তীরে বেঞ্চ পাতানো ছাউনি। এই ট্রেইরের মাঝামাঝি জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে একটি পর্যবেক্সণ টাওয়ার। সুউচ্চ এই টাওয়ার থেকে করমজল এবং বনের উপরিভাগের সবুজাভ নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে যে কেও মুগ্ধ হবে।


সরকার পরিচালিত বাংলাদেশের একমাত্র লবণ পানির কুমির ও বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে এখানে। করমজলে রয়েছে রোমিও, জুলিয়েট ও পিলপিল নামে তিনটি বড় কুমির। পাশাপাশি একাধিক চৌবাচ্চায় ২০০-৩০০টি বিভিন্ন অকারের কুমিরের বাচ্চা দেখা যাবে। দৈর্ঘ্যে ২ মিটার লম্বা হলেই কুমিরের বাচ্চাগুলেকে নদীর জলে অবমুক্ত করা হয়। এছাড়া এখানে রয়েছে চিত্রা হরিণ, ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে দেখা মিলবে বন মোরগ আর বন্য শুকরের ।


ফেরার পথে পশুর নদীতে সূর্যাস্ত, জেলেদের মাছ ধরার কর্মযজ্ঞ, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর নদীতে ডলফিন কিংবা শুশুকের দেখা মিললে তা হবে আপনার অতিরিক্ত প্রাপ্তি।




 কোথায় থাকবেন


সারাদিন করমজলে বেড়িয়ে এসে রাতে থাকতে পারেন বন্দর শহর মংলায়। এখানে রয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল পশুর (০৪৬৬২-৭৫১০০)। নন এসি ডবল রুমের ভাড়া ১হাজার ২শ’ টাকা এবং এসি ডবল রুম ২ হাজার টাকা, ইকোনোমি বেড ৬শ’ টাকা। এছাড়া মংলা শহরে সাধারণ মানের কিছু হোটেল রয়েছে। 


 প্রবেশ ফি


করমজলে দেশি পর্যটকদেও জন্য প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা, বিদেশী পর্যটক ৩শ’ টাকা। দেশি ছাত্র ২০ টাকা, দেশি গবেষক ৪০ টাকা, বিদেশী গবেষক জনপ্রতি ৫শ’ টাকা। অপ্রাপ্ত বয়স্ক (বারো বছরের নিচে) ১০ টাকা । সব মূল্যের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য ।





যাওয়ার উপায়


ঢাকার গাবতলী কিংবা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি খুলনা কিংবা বাগেরহাট নামতে পারবেন। বাস স্টেশন থেকে মংলা বন্দর। মংলা থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে যেতে হবে করমজল। দশ জনের উপযোগী একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকার ভাড়া ১হাজার থেকে ১২শ’টাকা। ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলো ছাড়ে মংলা ফেরিঘাট থেকে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.